সচল হওয়ার পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানি বাণিজ্য

পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানি বাণিজ্য আবারও সক্রিয় হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।২০২০ সাল থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব,বৈশ্বিক মন্দা,ডলার সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে আমদানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল।

বাংলাদেশের-অর্থনীতি

পাঁচ বছরের টানা বাধার পর এখন আমদানি আবার সচল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।আড়াই বছর ধরে চলা ডলার সংকট ক্রমেই কমছে,এবং বৈদেশিক ঋণের স্থিতিও কমে আসছে,ফলে ঋণ পরিশোধের চাপ কমছে ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও কমেছে।আগামী বছরে দাম গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।জ্বালানি তেলের দামও হ্রাস পেয়েছে এবং প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে,যা আমদানি বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।

২০২০ সালে করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী লকডাউন শুরু হলে আমদানিও বাধাগ্রস্ত হয়,যা ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।এরপর পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে এবং ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তা আরো বেড়ে যায়,যার কারণে আমদানিতে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। 

২০২২ সালের এপ্রিলে দেশে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করে,এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে।প্রথমে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাদে বাকি সব পণ্যে ২৫ শতাংশ এলসি মার্জিন আরোপ করা হয়,যা পরে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ ও শতভাগ করা হয়।বিলাসী পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও আরোপ করা হয়,ফলে আমদানিনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে।

২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানিতে পড়ে এবং তখন তা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৬৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি খরচ কিছুটা বেড়ে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলারে পৌঁছায়।২০২১-২২ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও দাম বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার ২৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছে।

এরপর ২০২২ সালে বৈদেশিক ঋণসহ আমদানি ব্যয় বেড়ে এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৯০০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়।যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানির খরচও বাড়ে।২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ১৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে আসে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরো ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। 

নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এলসি মার্জিন শিথিল করা হয়েছে,কেবল ১৪টি বিলাসী পণ্যের ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন প্রযোজ্য রয়েছে।অর্থ পাচার কমে যাওয়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে।এখন রিজার্ভ থেকে অর্থ ছাড়াই আমদানি ব্যয়সহ অন্যান্য দেনা শোধ করা সম্ভব হচ্ছে,এবং প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানির সুযোগ বৃদ্ধি করায় ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার প্রবণতা বেড়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কম থাকায় এখন তুলনামূলক কম খরচে বেশি পণ্য আমদানি সম্ভব হচ্ছে।ফলে আমদানিনির্ভর শিল্প মন্দা কাটিয়ে আবার কার্যক্রম চালু করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন